আজ সোমবার| ২৬শে অক্টোবর, ২০২০ ইং| ১১ই কার্তিক, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ
আজ সোমবার | ২৬শে অক্টোবর, ২০২০ ইং

শরীয়তপুর বন্যায় পানিবন্দী মানুষগুলোর ঘরে খাবার নেই আশ্রয় নিয়েছেন রাস্তায়

মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২০ | ৬:২১ অপরাহ্ণ | 176 বার

শরীয়তপুর বন্যায় পানিবন্দী মানুষগুলোর ঘরে খাবার নেই আশ্রয় নিয়েছেন রাস্তায়

শরীয়তপুর বন্যায় পানিবন্দী মানুষগুলোর ঘরে খাবার নেই আশ্রয় নিয়েছেন রাস্তায়

শরীয়তপুরের নড়িয়ার পশ্চিম চাকধ গ্রামের বাসিন্দা নদীভাঙ্গা আস্রয় কৃত এক নারীর। গত বৃহস্পতিবার তাঁর কোলজুড়ে আসে ফুটফুটে সন্তান। তখন তাঁর বাড়ির উঠানে ছিল বন্যার পানি। দুই দিনেই সেই পানিতে ডুবেছে বসতঘর ও রান্নাঘর। বাধ্য হয়ে নবজাতক ও আরেক সন্তানকে নিয়ে বসতঘর ছেড়ে গ্রামের ফাঁকা জায়গায় থাকা বাঁশের মাচায় ঠাঁই নেন তিনি। কিন্তু সেখানেও এখন পানি ছুঁই ছুঁই করছে। তিনি বলেন, ‘বন্যার মধ্যে খুব অসহায় অবস্থায় পড়ে গেলাম। স্বামী বিল্লাল হোসেন রিকশা চালিয়ে সংসারের খরচ জোগান দেন। এলাকায় পানি উঠে সড়ক তলিয়ে গেছে, রিকশা চলছে না। আয়ও বন্ধ। এক প্যাকেট শুকনা খাবার পেয়েছিলাম। এরপর কী হবে, আল্লাহই জানেন।ওই গ্রামের ৪টি পরিবার আশ্রয় নিয়েছে সড়কের পাশে অটোরিকশা গ্যারেজে। তাদেরই একজন রেহানা খাতুন। আজ দুপুরে ওই গ্যারেজে পানির মধ্যে দাঁড়িয়ে রান্না করছিলেন। তিনি বলেন, পাশের গ্রামের একটি স্কুলকে আশ্রয়কেন্দ্র ঘোষণা করা হয়েছে। কিন্তু গবাদিপশু ও বাড়ির অন্যান্য জিনিস রেখে আশ্রয়কেন্দ্রে যেতে পারছেন না। তাই বাধ্য হয়ে গ্যারেজে আশ্রয় নিয়েছেন। এই মুহূর্তে বেশি সমস্যা হচ্ছে খাওয়ার পানি, রান্নার জ্বালানি ও গবাদিপশুর খাদ্যসংকটে।আজ মঙ্গলবার পদ্মা নদীর পানি নড়িয়ার সুরেশ্বর পয়েন্টে বিপৎসীমার ৩৫ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এরই মধ্যে নদীর তীর উপচে জেলার নড়িয়ায় ১৫টি, জাজিরায় ১২, শরীয়তপুর সদরে ১০ ও ভেদরগঞ্জ উপজেলার ৭টি ইউনিয়নে ৩০০টি গ্রাম এখন প্লাবিত। এতে অন্তত ৭০ হাজার পরিবার পানিবন্দী হয়ে পড়েছে।

পাশের গ্রামে আশ্রয়কেন্দ্র থাকলেও গবাদিপশু ও বাড়ির অন্যান্য জিনিস রেখে আশ্রয়কেন্দ্রে যাননি অনেকেই। তেমনই একজন রেহেনা বেগম। তাই আশ্রয় নিয়েছেন পাশের অটোরিকশা গ্যারেজে। সেখানেই সারছেন রান্নার কাজ।
পাশের গ্রামে আশ্রয়কেন্দ্র থাকলেও গবাদিপশু ও বাড়ির অন্যান্য জিনিস রেখে আশ্রয়কেন্দ্রে যাননি অনেকেই। তাই আশ্রয় নিয়েছেন পাশের অটোরিকশা গ্যারেজে। সেখানেই সারছেন রান্নার কাজ।
আজ জাজিরার নাওডোবা, পালেরচর, নড়িয়ার বৈশাখী পারা, বাশতলা পূর্ব নড়িয়া, কলুকাঠী, পাইকপাড়া, লোনসিং সহ মুলফৎগঞ্জ,কেদারপুর, চন্ডিপুর, ভুমখাড়া,পশ্চিম চাকধ, রাজনগর, নশাসন এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, পানিবন্দী মানুষগুলোর অনেকের ঘরেই শুকনা খাবার নেই। কেউ কেউ উঁচু মাচা বা নৌকায় রান্না করছে। তবে গ্রামগুলোতে খাওয়ার পানি, রান্নার জ্বালানি ও গো-খাদ্যের সংকট তীব্র।এদিকে গতকাল সোমবার রাতে ঢাকা-শরীয়তপুর সড়কের নড়িয়ার রাজনগর, জামতলা, মৃধাকান্দি, ডগ্রি এলাকায় পানি উঠেছে। সড়কে হাঁটুসমান পানি উঠে যাওয়ায় যানবাহন চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। আজ দুপুরে ওই সড়ক পরিদর্শনে যান শরীয়তপুর–১ আসনের সাংসদ ইকবাল হোসেন অপু। তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ‘জেলার এ গুরুত্বপূর্ণ সড়কটিতে যানবাহন চলাচল বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছে। আমরা বালুর বস্তা-ইটসহ নির্মাণসামগ্রী ফেলে সড়কটি সচল রাখার চেষ্টা করছি। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ দিয়েছেন একজন মানুষও যেন অর্ধাহারে-অনাহারে না থাকে। আমরা বন্যাকবলিত মানুষদের বাড়িতে খাদ্যসহায়তা পৌঁছে দেওয়ার কাজ শুরু করেছি।’

শরীয়তপুরের জেলা প্রশাসক কাজী আবু তাহের বলেন, বন্যাকবলিত মানুষের জন্য ২৯৮টি আশ্রয়কেন্দ্র চালু করা হয়েছে। সেখানে তারা ঘরের জিনিসপত্র ও গবাদিপশু নিয়ে আশ্রয় নিতে পারবে। পানিবন্দী প্রতিটি পরিবারকে ১০ কেজি করে চাল দেওয়ার কার্যক্রম শুরু হয়েছে। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের বরাদ্দকৃত ৪৭০ মেট্রিক টন চাল এরই মধ্যে বিভিন্ন ইউনিয়নে পৌঁছে গেছে।

It's only fair to share...Share on FacebookShare on Google+Tweet about this on TwitterShare on LinkedIn

সর্বশেষ সংবাদ
ফেইসবুক পাতা