আজ শুক্রবার| ২৫শে সেপ্টেম্বর, ২০২০ ইং| ১০ই আশ্বিন, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ
আজ শুক্রবার | ২৫শে সেপ্টেম্বর, ২০২০ ইং

নড়িয়া থানা ওসি করোনার ঝুঁকি নিয়ে রাস্তায় পড়ে থাকা এক নারীকে উদ্ধার করে প্রাণে বাঁচালেন

বৃহস্পতিবার, ২১ মে ২০২০ | ৫:৪২ অপরাহ্ণ | 139 বার

নড়িয়া থানা ওসি করোনার ঝুঁকি নিয়ে রাস্তায় পড়ে থাকা এক নারীকে উদ্ধার করে প্রাণে বাঁচালেন

নড়িয়া থানার ওসি হাফিজুর রহমান। বিভিন্ন কর্মকান্ড করে বার বার ভাইরাল হয়েছেন সামাজিক মাধ্যমে। এবার আরো একটি কারনে তাকে নিয়ে আলোচনা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। আজ ঘুর্ণিঝড় আম্ফানের প্রভাবে যখন গুড়ি গুড়ি বৃষ্টি হচ্ছিল, তখন নড়িয়ার রাস্তার ধারে পড়ে আছে একজন মহিলা। এমন চিত্র দেখে থানায় ফোন করেন স্থানীয় একজন। আর সেই ফোন পেয়েই ঘটনা স্থলে ছুটে যান নড়িয়ার ওসি হাফিজুর রহমান। করোনা ঝুঁকির মধ্যে ঝুঁকি নিয়ে তাকে উদ্ধার করেন, ভর্তি করেন হাসপাতালে।

এই পুরো ঘটনাটি তুলে ধরেন তার এক ফেসবুক স্ট্যাটাসে।

স্ট্যাটাসটি নিচে তুলে ধরা হলো।।।

“ইংরেজি ২০.০৫.২০২০ তারিখ দুপুর অনুমান ১৫.৩০ ঘটিকার সময় একজন ভদ্রলোক ফোন করে জানান নড়িয়া থানাধীন ভূমখাড়া ইউনিয়নের নয়াকান্দি বিদ্যুৎ অফিসের একশত গজ দক্ষিণ দিকে রাস্তার পাশে একজন মহিলা পড়ে আছেন। আমি তাকে জিজ্ঞাসা করি মহিলা জীবিত আছেন কিনা? তিনি জানান বোঝা যাচ্ছে না জীবিত না মৃত। আমি তাকে মহিলাকে হাসপাতালে প্রেরণ এর জন্য অনুরোধ করি। তিনি বর্তমান করোনার কারণে ভয় পাচ্ছেন এবং পুলিশের সহায়তার কথা বলেন । আমি সঙ্গে সঙ্গে ইন্সপেক্টর তদন্ত প্রবীণ চক্রবর্তী এসআই মামুন খানসহ নয়াকান্দি গিয়ে দেখি রাস্তার পাশে ২০/২২ বছরের একজন মহিলা পড়ে আছেন। মহিলার সঙ্গে থাকা একটা ব্যাগ খোঁজাখুঁজি করে তার জন্ম নিবন্ধন পাওয়া যায় জন্মনিবন্ধনে তার নাম শারমিন সুলতানা পিতা চান মিয়া গ্রাম কাঠ হুগলি গোলার বাজার নড়িয়া শরীয়তপুর।

নয়াকান্দি যাওয়ার পরে মুষলধারে বৃষ্টি শুরু হয় কোন উপায়ন্তর না দেখে রাস্তার পাশের কলা গাছের পাতা কেটে মহিলার শরীর ঢেকে দেই । স্থানীয় এক ছেলে ছাতা নিয়ে এসেছিল তার কাছ থেকে ছাতাটি নিয়ে মহিলার মুখের উপর ধরি এবং আমি নিজে ও ব্যবহার করি। মহিলার জীবিত আছে দেখে আমি মুলফৎগঞ্জ হসপিটালের উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা জনাব মোঃ শফিকুল ইসলাম ভাইকে অ্যাম্বুলেন্সে পাঠানোর জন্য অনুরোধ করি। তিনি আমার অনুরোধ রক্ষা করে মুলফৎগঞ্জ হসপিটালের অ্যাম্বুলেন্স প্রেরণ করেন।

আমি যেহেতু কাছে গিয়ে মহিলাকে জ্ঞান ফেরানোর চেষ্টা চেষ্টাসহ তার সেবা করি সেহেতু অনেকেই আমাকে দেখে মহিলাকে সাহায্যের জন্য এগিয়ে আসে। কিছুক্ষণ আগে রাস্তার পাশে পড়ে থাকা মহিলা করোনা রোগী ভেবে এত সময় যারা দূরে ছিলন আমাদের দেখাদেখি তারাও সাহায্যে এগিয়ে আসে। অ্যাম্বুলেন্সে উঠানোর সময় পুলিশের সাথে সাথে তারাই স্বতঃস্ফূর্তভাবে মহিলাকে ধরেছে। এ যেন মানবতার এক অপূর্ব নিদর্শন। জানিনা এই ভদ্রমহিলা আদৌ সুস্থ হবেন কিনা তবে আমরা চেষ্টা করেছি মহিলাকে চিকিৎসার ব্যবস্থা করার। মহিলা বর্তমানে মুলফৎগঞ্জ হাসপাতালের আইসোলেশন ওয়ার্ডে ভর্তি আছেন। মহান আল্লাহ পাকের কাছে প্রার্থনা তিনি যেন আমাদের কাজে সফলতা দান করেন মহিলা যেন সুস্থ হয়ে নিজ বাড়িতে ফিরতে পারে।”

তবে নড়িয়া থানার ওসি হাফিজুর রহমান বলেন, আসলে মানবিক কারনেই এটা করা। কেউ না কেউতো তাকে উদ্ধার করবে। তাছাড়া করোনার ঝুঁকির বিষয়টি আমাদের পুলিশের কাছে একটা স্বাভাবিক ঘটনা। প্রতিনিয়ত আমাদের থানায় শত শত লোক আসে, আমরা জানিও না কার সাথে করেনা আছে। তাই রাস্তার পড়ে থাকা ঐ নারীকে উদ্ধার করার ক্ষেত্রে করোনার ঝুঁকির কথা চিন্তা করাটা প্রয়োজন মনে করি নাই। তার করোনা থাকতেও পারে, নাও পারে।

It's only fair to share...Share on FacebookShare on Google+Tweet about this on TwitterShare on LinkedIn

সর্বশেষ সংবাদ
ফেইসবুক পাতা